বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারী ২০২৬, ০৫:৪৫ পূর্বাহ্ন

মোঃ মাহতাব হাওলাদার, মহিপুরঃ গ্রামীণ ঐতিহ্যের বড় অংশ হচ্ছে হাট-বাজার। হাট-বাজারকে কেন্দ্র করে সচল থাকে গ্রামের অর্থনীতির চাকা। কিন্তু নগর সভ্যতার বিকাশের সঙ্গে সঙ্গে এই হাট ধীরে ধীরে আড়ালে চলে যাচ্ছে। বিভিন্ন এলাকায় মফস্বল বাজারগুলি জনপ্রিয় হয়ে ওঠায় গ্রামের হাট তার আগের কৌলিন্য অনেকটাই হারিয়ে ফেলেছে। এছাড়াও কিছু অসাধু ব্যক্তিদের কারণে দখল বাণিজ্যে হারিয়ে যেতে বসেছে বৃহত্তর মহিপুর বাজারের সাপ্তাহিক হাটের সৌন্দর্য!
মহিপুর থানার বৃহত্তর মহিপুর বাজারে সাপ্তাহিক হাটের সরকারী জায়গা দখল করে দোকানঘর নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে এক শ্রেনীর অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে। শুধু তাই নয় একের পর এক সরকারী জমি দখল করে আসলেও প্রশাসনের কর্মকর্তাদের এ ব্যাপারে কোন মাথা ব্যাথা নেই বলে দাবী এলাকাবাসীর।
এদিকে প্রশাসনের সঠিক নজরদারী না থাকার ফলে সরকারী জমি গুলো দখল হয়ে যাচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন এলাকাবাসী। যার ফলেই তারা এসব অবৈধ কাজ করে পার পেয়েই যাচ্ছেন।
এমনকি কিছু অসাধু ব্যবসায়ী হাট ইজারাদার কিংবা প্রশাসনের কতিপয় লোকজনকে ম্যানেজ করে বাজারের সরকারী জায়গায় দখল করে সহজেই গড়ে তুলছে স্থায়ী স্থাপনা।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, সরকারী হাটের জায়গা দখল করে ইতিমধ্যে দোকান ঘর নির্মাণ করে আসছেন মহিপুর বাজারের কতিপয় কিছু ব্যক্তিরা। প্রশাসনের লোকজন বিষয়টি জেনেও না জানার ভান করে থাকলেও অবশেষে ওই দোকানঘর নির্মাণের বড় বাঁধা হয়ে দাঁড়িয়েছেন এলাকাবাসী।
তবে অভিযুক্তরা দাবী করে বলেন, যায়গাটি তাদের বন্দোবস্ত নেয়া আছে। তাই তিনি এখানে দোকান ঘর নির্মাণ করেছেন।
মহিপুরে অনেকেই সরকারী জায়গা দখল করে স্থায়ীভাবে স্থাপনা নির্মাণ করে দোকান করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। তবে এসব বিষয় নিয়ে গনমাধ্যমে একাধিক সংবাদ প্রকাশ হলেও টনক নড়েনি প্রশাসনের।
এ বিষয়ে মহিপুর বাজারের ব্যাবসায়ী মোঃ ফারুক হাওলাদার অশ্রুসিক্ত নয়নে তার প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে বলেন, শৈশব থেকে মহিপুর বাজারের কাদামাটিতে বড় হয়েছি, দাদা ছিলেন ব্যবসায়ী, বাবা ছিলেন ব্যবসায়ী, সেই সূত্রে আমরাও ব্যবসা করছি। অথচ আজকে কি দেখছি ঐতিহ্যবাহী সাপ্তাহিক হাট এর জায়গা গুলি একেক করে অবৈধভাবে দখল হয়ে যাচ্ছে।
এই অবৈধ দখলের ফলে ভাসান ব্যবসায়ীরা আজ বিলুপ্তির পথে মহিপুর সাপ্তাহিক হাটের দিনে মধ্য বাজারে ভাসান ব্যবসায়ীদের জন্য নির্ধারিত জায়গাটি এক শ্রেনীর অসাধু ব্যক্তিরা মহিপুর ও কলাপাড়া ভূমি অফিস ম্যানেজ করে অবৈধ স্থাপনা তৈরি করে পুরো জায়গাটি দখল করে নিয়েছে,সর্বশেষ লোকজনের চলাচলের জন্য রেখে দেওয়া জায়গাটিও আজ সন্ধ্যার দিকে দখল করে স্থাপনা তৈরি করা হচ্ছে।
অথচ কলাপাড়া উপজেলায় সর্ববৃহত সাপ্তাহিক হাট মহিপুর হাট।
এই হাটে মহিপুর ইউনিয়ন সহ পার্শবর্তি আরো পাঁচটি ইউনিয়নের জেলে,কৃষকসহ হাজার হাজার সাধারন মানুষ সাপ্তাহিক হাট করতে মহিপুরে আসে।
এক সময়ে এই হাটে শত শত নৌকা ও ট্রলার নিয়ে প্রতি বৃহস্পতিবার ভাসান ব্যবসায়ীরা ব্যবসা করতে আসতো,তাদের জন্য নির্ধারিত জায়গাগুলো ক্রমশ দখল হওয়ায় এখন আর আগের মত ভাসান ব্যবসায়ীদের দেখা যায়না, যারফলে প্রতিনিয়ত হারিয়ে যাচ্ছে মহিপুরের পুরনো ঐতিহ্য।
জেলা প্রসাশক মহোদয়, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মহোদয়,ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধি সহ মহিপুর বাজার ব্যবস্থাপনা কমিটির কাছে মহিপুরে সাপ্তাহিক হাটের দিন ভাসান ব্যবসায়ীদের জন্য নির্ধারিত জায়গাটি দ্রুত দখলমুক্ত করে ভাসান ব্যবসায়ীদের জন্য নির্ধারিত জায়গাটি উন্মুক্ত করে আমাদের মহিপুরের হারানো ঐতিয্য সাপ্তাহিক হাটের সৌন্দর্য ফিরিয়ে দেওয়ার জোর দাবী জানাচ্ছি।
© All rights reserved 2022 © aponnewsbd.com
Leave a Reply